ছাত্রদের জন্য দারুন জিনিস ইংরেজী তারিখ থেকে বাংলা সন বের করা পদ্ধতি

প্রকাশিত: ২:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২০

ছাত্রদের জন্য দারুন জিনিস ইংরেজী তারিখ থেকে বাংলা সন বের করা পদ্ধতি
অনু লিখন আসিফ কাজলঃ
চাকরির ইন্টারভিওর ক্ষেত্রে বাংলার কোন সনে আপনার জন্ম হয়েছিলো জানতে চাইলে কি করবেন তখন? বা যে কেও প্রশ্ন করলো ১৯৭১ সালটি বাংলায় কত ছিল? এখন আমাদের ১৯৪৭,১৯৫২,১৯৭১, ইত্যাদি সনে জাতীয় পর্যায় বিভিন্ন প্রশ্ন থাকে যেগুলো ইংরেজী সন দিয়েই আমরা মনে রাখি । কিন্তু বাংলায় শিখতে গেলে প্যাচ লেগে যাওর সম্ভাবনা থাকবে । তাই শুধু ইংরেজী সনটি জানা থাকলেই বাংলা সনটি খুব সহজেই বের করতে পারবেন। ইংরেজি সাল দিয়ে, কিভাবে বাংলা সাল বের করবেন?? ইংরেজী সন থেকে 593 বিয়োগ করলে বাংলা সন পাওয়া যাবে।
তাহলে ১৯৭১সালটি বাংলায় (১৯৭১-৫৯৩)সন ছিলো বা ১৩৭৭ সন ছিলো।
অথবা ইংরেজী সনের জোড়া সংখা থেকে ৬ বিয়োগ ও যোগ করেও বের করা যায় ।
১৯৭১=(১৯-৬)(৭১+৬)=(১৩)(৭৭)=১৩৭৭
ধরুন ২০১৫ সনটি বাংলায় কত সন সেটি কিভাবে বের করবো । ২০১৫ সংখাটিতে ২০ ও ১৫ থেকে ২০-৬=১৪ এবং ১৫+৬=২১ তাহলে ১৪২১ সন হয়। এখন ইংরেজী তারিখ থেকে বাংলা তারিখ বের করবেন কিভাবে? যে কোন ইংরেজী তারিখ ও সন থেকে ৫৯৩বছর ৩মাস ১৩দিন বিয়োগ করুন, দেখবেন বাংলা তারিখ পেয়ে গেছেন!
যেমনঃ ১৯৫২সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী বাংলা তারিখ ছিল-
সন-মাস-তারিখ
১৯৫২-০২-২১
-৫৯৩-০৩-১৩
─────────
উঃ১৩৫৮-১১-০৮(বিয়োগফল)
শুধু সন বের করার জন্য ১৯৫২=(১৯-৬)(৫২+৬)=১৩৫৮ পদ্ধতিটি মনে রাখলেই হবে। অর্থাৎ, ভাষা দিবসের বাংলা তারিখটি ছিলো ১৩৫৮সালের ৮ই ফাল্গুন।
অনুরূপভাবে যেকোন ইংরেজী সনের বাংলা আপনি সহজেই জানতে পারবেন।
এবার বাংলা মাসের নাম ও তারিখ জানার পালা। বাংলা ১ লা বৈশাখ সবসময় ইংরেজি এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখে শুরু হয় এবং অন্যান্য মাস গুলো ইংরেজি মাসের ১৩-১৬ তারিখের মধ্যে হয়ে থাকে। ১৯৯৬ সালের পর থেকে এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখকে বাংলা ১লা বৈশাখ হিসাবে উদযাপন করা হয়।বাংলা বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র এই পাঁচ মাস ৩১ দিনের হয় আর বাকি সব মাস ৩০ দিনের হয়।
এবার জেনে নিন ইংরেজি মাসের কত তারিখে বাংলা মাস শুরু হয়। ইংরেজি মাসের ১৩ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে বাংলা মাসের শুরু হয়। যেহেতু ইংরেজি ১৩-১৬ তারিখের মধ্যে বাংলা সব মাসের শুরুর দিন থাকে । আমাদের বাংলা মাসের
কোড শুরু হয়েছে ইংরেজি এপ্রিল মাস থেকে। এপ্রিলের ১৪ তারিখ ১ বৈশাখ। মাসের নাম বের হয়ে গেলে তারিখ বের করার জন্য নিচের নিয়মটি মনে রাখুন।
তারিখ থেকে মাসের কোড বাদ দিন সাথে ১ যোগ করুন। ২৮-১৪= ১৪+১ =১৫ বৈশাখ। তাহলে ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল হল ১৫ বৈশাখ ১৪২১ বঙ্গাব্দ রোজ সোমবার। আশা করি বুঝবার পারছেন। এবার নিজেকে যাচাই করুন নিচের তারিখটির সমাধান বের করে কাজী নজরুল ইসলামের জম্ম ১৮৯৯ সালের ২৫ মে জন্ম গ্রহণ করেন। আপনাদেরকে বলতে হবে এই বছর কাজী নজরুল ইসলামের কত তম জন্মদিন, বাংলা কোন মাসের কত তারিখ ও কি বার। বিঃ দ্রঃ ফেব্রুয়ারির ৩০ তারিখ কিংবা জুনের ৩১ তারিখ কি বার। এপ্রিল, জুন, সেপ্টেম্বর, নবেম্বর এই চার মাস কখনো ৩১শা হয় না। অপর পক্ষে ফেব্রুয়ারি কখনো ৩০শা হয় না। খেয়াল রাখবেন কিন্তু। যেমন ২১/০২/১৯৫২ ইংরেজি তারিখ টি বাংলায় কত তারিখ ছিল-
১৯৫২ বছর ২ মাস ২১ দিন
(-) ৫৯৩ ।। ৩ ।। ১৩ ।।
—————————————–
= ১৩৫৮ ।। ১১ ।। ০৮ ।।
৮ ই ফাল্গুন ১৩৫৮ সাল ।
এবার আসুন যেনে নেই বাংলা সনের ইতিহাস :
মোঘল সম্রাট আকবরের হাত ধরে বাংলা সনের পথচলা। বাংলা সন প্রবর্তনের পিছনে প্রধানত দু’টি কারণ পরিলক্ষিত হয়। প্রথমতঃ আকবরের শাসনকার্য হিজরী সন অনুযায়ী পরিচালিত হ’ত। এতে খাজনা আদায়ে অসুবিধার সৃষ্টি হ’ত। কারণ চান্দ্রবর্ষ প্রতি বছর ১০/১১ দিন এগিয়ে যায়। এটি আল্লাহর বিশেষ করুণা যে, তিনি ইবাদতকে চন্দ্রের সাথে নির্দিষ্ট করেছেন। এতে করে যুগ পরিক্রমায় আরবী মাসগুলো সব ঋতুতেই আসে। সূর্যের সাথে সম্পৃক্ত হলে চিরকালই এক মওসুমে ছিয়াম অথবা অন্যান্য ইবাদত পালন করতে হ’ত। কারণ সূর্যের সাথে সৌরবর্ষের হিসাব থাকায়
দিন-মাস-ঋতুর গণনা সব সময় একই থাকে। শস্য উৎপাদন ও খাজনা আদায়ের সমন্বয় সাধনের জন্য সম্রাট আকবর সৌরবর্ষের হিসাবে বাংলা সালের প্রবর্তন করেন। সম্রাট আকবরের আমলে ফারসী মাসের অনুকরণে বাংলা মাসের নাম ছিল যথাক্রমে ফারওয়ারদিন, উর্দিবাহিশ, খোরদাদ, তীর, মুরদাদ, শাহারিবার, মেহের, আবান, আজার, দে, বাহমান ও ইসফান্দ। পরবর্তীতে নানা ঘটনাক্রমে
মাসের নামগুলো বিভিন্ন তারকার নামানুসারে বর্তমান নামে রূপান্তরিত বা প্রবর্তন করা হয়।বাংলা বা ফসলী সনে বারো মাসের নামকরণ করা হয়েছে নক্ষত্রমন্ডলে চন্দ্রের আবর্তনে বিশেষ তারার অবস্থানের উপর ভিত্তি করে । এই নাম সমূহ
গৃহিত হয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক প্রাচীন গ্রন্থ “সূর্যসিদ্ধান্ত” থেকে।বাংলা মাসের এই নামগুলি হচ্ছে -বৈশাখ – বিশাখা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
জ্যৈষ্ঠ – জ্যেষ্ঠা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
আষাঢ় – উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্রের নাম অনুসারে
শ্রাবণ – শ্রবণা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
ভাদ্র – পূর্বভাদ্রপদ নক্ষত্রের নাম অনুসারে
আশ্বিন – অশ্বিনী নক্ষত্রের নাম অনুসারে
কার্তিক – কৃত্তিকা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
অগ্রহায়ণ(মার্গশীর্ষ) – মৃগশিরা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
পৌষ – পুষ্যা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
মাঘ – মঘা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
ফাল্গুন – উত্তরফাল্গুনী নক্ষত্রের নাম অনুসারে
চৈত্র – চিত্রা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
বাংলা সনে দিনের শুরু ও শেষ হয় সূর্যোদয়ে । ইংরেজী বা গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির শুরু হয় যেমন মধ্যরাত হতে। আর হিজরী সনে তারিখ শুরু হয় সূর্য ডোবার সাথে সাথে।
একটি কথা বলে রাখা ভাল আজকের বাংলা সন যিনি প্রচলন করেন তিনি হচ্ছেন জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর। তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট।মুঘল সাম্রাজ্য ভারত উপমহাদেশের অধিকাংশ অঞ্চল নিয়ে বিস্তৃত ছিল; অঞ্চলটি সে সময় হিন্দুস্থান বা হিন্দ নামে পরিচিত ছিল। এছাড়া আফগানিস্থান ও বেলুচিস্থানের বেশ কিছু এলাকাও মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। মুঘল সাম্রাজ্য ১৫২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, ১৭০৭ সাল পর্যন্ত এর সীমানা বিস্তার করে, এবং ১৮৫৭ সালের এর পতন ঘটে। চেঙ্গিস খান ও তৈমুর লঙের উত্তরসূরী জহিরুদ্দিন মুহম্মদ বাবর ১৫২৬ সালে দিল্লীর
লোদী বংশীয় সর্বশেষ সুলতান ইবরাহিম লোদীকে প্রথম পানিপথের যুদ্ধে পরাজিত করে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।পিতা সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে আকবর ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে। সভাবতই অল্পবয়সে শাসনভার গ্রহণ করায় পুঁথিগত বিদ্যার অবসান ঘটে। তার সভাসদ্‌ ছিল ত্বত কালে মুঘল সালতানাতের মসুর ব্যক্তিগন যার পরবর্তীতে দীন-ই-এলাহী (নিজ ধর্ম) প্রচলনে প্ররোচনাদেয় তার সাম্রাজ্য রক্ষায় তিনি সাম্রাজ্যের রাজপুতদের সাথে সুসম্পর্ক রাখার স্বার্থে বিভিন্ন রাজবংশের রাজকন্যাদের বিয়ে করেন।বাংলাদেশ এবং পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা অঞ্চলে এই বর্ষপঞ্জি ব্যবহৃত হয়। বাংলা সন শুরু হয় পহেলা বৈশাখ বা বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে যে দিনটি ইংরেজী বর্ষপঞ্জির ১৪/১৫ এপ্রিল (ভারতে) এবং ১৪ এপ্রিল (বাংলাদেশে)। ‘লা সন সব সময়ই গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির চেয়ে ৫৯৩ বছর কম।মধ্যযুগে বাংলা সনের প্রচলনের আগে কৃষি ও ভূমি কর বা খাজনা আদায় হতো ইসলামিক হিজরী বর্ষপঞ্জি অনুসারে । হিজরী বর্ষপঞ্জি চান্দ্রমাস নির্ভর বলে সব সময় কৃষি কর্মকাণ্ড অর্থ বর্সের সাথে মিলতো না । তাতে কৃষি জীবিদের ফসলহীন ঋতুতে কর বা খাজনা দেবার জন্য বাধ্য করা হতো । এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মুঘল সম্রাট আকবর (শাসনকাল ১৫৫৬ খৃষ্টাব্দ হতে ১৬০৫ খৃষ্টাব্দ) বর্ষপঞ্জি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন । রাজকীয় জ্যোর্তিবিদ আমির
ফতেউল্লাহ্ সিরাজী চান্দ্রমাস নির্ভর হিজরী বর্ষপঞ্জি এবং সৌরমাস নির্ভর হিন্দু বর্ষপঞ্জি গবেষণা করে একটি নতুন বর্ষপঞ্জি প্রস্তাব করেন ।দিল্লির সম্রাট আকবর ৯৬৩ হিজরী, ২ রবিউছ ছানি, রোজ শুক্রবার, ইংরেজি ১৪ এপ্রিল ১৫৫৬ তারিখ থেকে পয়লা বৈশাখ পালনের রেওয়াজ শুরু করেন। ওইদিন সম্রাট আকবরের সিংহাসনে অভিষেক হয়। সে দিনটিকে স্মরণ রাখার জন্য সম্রাট আকবর তাঁর সাম্রাজ্যে সর্বত্রই হিজরী সনের পরিবর্তে সৌরবৎসর পালনের সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলেই সূচনা হলো বাংলা বর্ষপঞ্জির বা বাংলা তথা ফসলী সনের । বাংলা সনের সূচনা হয় ফসল তোলার সময়ে যখন কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে বছরের অন্য সময়ের চাইতে সচ্ছল থাকে । নতুন বর্ষপঞ্জি প্রথম দিকে ফসলী সন হিসেবে পরিচিত ছিল ।আকবরের সিংহাসনারোহণের মাস মুহাররমের সাথে শকাব্দের বৈশাখ মাস পড়ে যাওয়ায় তিনি ‘তারিখ-ই-ইলাহী’ বা ফসলী সনের শুরু করেন বৈশাখ মাস দিয়ে। সেই থেকে চৈত্রের পরিবর্তে বৈশাখ দিয়ে শুরু হয় নতুন বছর। আববরের আদেশে ১৫৮৫ খৃষ্টাব্দ মোতাবেক ৯৯২ হিজরীতে ফসলী সন বা বাংলা সনের ফরমান জারী হয়। ৯৯২ হিজরীতে আদেশ জারী করলেও ৯৬৩ হিজরীতে আকবরের সিংহাসন আরোহণের সাল থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। ৯৬৩ সালে বাংলা ও হিজরী সাল একই ছিল। অতঃপর হিজরী সাল প্রতি বছর ১০/১১ দিন এগিয়ে যাওয়ায় (২০১৪ইং/১৪২১ বঙ্গাব্দ-৯৬৩) ৪৫৯ বছরে হিজরীবর্ষ এগিয়ে গেছে ১৫ বছর। ফলে এখন বাংলা ১৪২১ আর আরবী ১৪৩৬। বাংলা তথা ফসলী সন শুরু হয়েছিল কবে থেকে সেটা তো অনেকেই জানেন ১৫৫৬ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে। তবে শুরুর দিন কিন্তু ১ সাল ছিল না, ছিল ৯৬৩ সাল। তখন এ দেশে হিজরী সাল প্রচলিত ছিল। কিন্তু ফসল তোলার সাথে খাজনা পাবার বিষয়টি জড়িত আর এই কারণে একটি বাৎসরিক সময় নির্ধারণের জন্য ফসলী সনের প্রবর্তন করে সম্রাট আকবর। হিজরী বছরটিকে ঠিক রেখেই নতুন একটি বর্ষপঞ্জি চালু করা হয়। দুনিয়ায় দুই ধরনের ক্যালেন্ডারের প্রচলন
আছে, চন্দ্রবৎসর ও সৌরবর্ষ। সূর্যকে মানদণ্ড ধরে সৌরবর্ষের দিনের হিসাব হয় আর চন্দ্রবর্ষের দিনের হিসাবে মানদণ্ড ধরা হয় চাঁদকে। খ্রিস্টাব্দ, বাংলা তথা ফসলী সন হচ্ছে সৌরবর্ষ। আর হিজরী হচ্ছে চন্দ্রবর্ষ। সৌরবর্ষের চেয়ে ১১ দিন ছোট চন্দ্রবর্ষ। হিজরী ৯৬৩ থেকে বঙ্গাব্দ শুরু বছর থেকে এ পর্যন্ত পেরিয়েছে (১৪৩১-৯৬৩)=৪৬৮ বছর। প্রতিবছর ১১ দিন হিসাবে ৪৬৮ বছরে দিনের পার্থক্য (৪৬৮ গুন ১১)=৫১৪৮ দিন। মানে (৫১৩৭/৩৬৫)=১৪.০৭৩৯ বছরের পার্থক্য।
বাংলা তথা ফসলী ১২ মাসের নামকরণ করা হয়েছে নক্ষত্রমণ্ডলে চন্দ্রের আবর্তনে বিশেষ নক্ষত্রের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে। ইংরেজী সালের বর্তমান রূপ যেভাবে এল :খৃষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে মধ্য আমেরিকার মেক্সিকোতে এক উচ্চমান সভ্যতা ছিল। যার নাম ‘মায়া সভ্যতা’। মায়াদের সংখ্যা তাত্ত্বিক জ্ঞান, গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে অসাধারণ দক্ষতা, শিল্পকলার উন্নতি ইত্যাদিতে ইতিহাস বিস্মিত। তারাই প্রথম আবিষ্কার করে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে আসতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন।
বলা হয়ে থাকে, নিজেদের গণনার সুবিধার্থে সর্বপ্রথম রোমানরা ক্যালেন্ডার তৈরী করে। তাতে বছরের প্রথম মাস ছিল মারটিয়াস। যা বর্তমানের মার্চ মাস। এটি তাদের যুদ্ধ দেবতার নামানুসারে নামকরণ করা হয়। অতঃপর খৃষ্টপূর্ব ১ম শতকে জুলিয়াস সিজার কয়েক দফা পরিবর্তন ঘটান ক্যালেন্ডারে। তৎকালীন প্রখ্যাত জোতির্বিজ্ঞানীদের সহযোগিতায় তিনিই প্রথম ক্যালেন্ডারে (মায়াদের আবিষ্কৃত সূর্যকে পৃথিবীর প্রদক্ষিণ কাল) ৩৬৫ দিন ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন পর্যন্ত তার উদ্ভাবিত ‘জুলিয়ান ক্যালেন্ডার’ বাজারে প্রচলিত থাকে। বহুকাল পরে এই ক্যালেন্ডার সংশোধন করে নতুন একটি ক্যালেন্ডার চালু হয়। দু’জন জোতির্বিজ্ঞানীর সাহায্যে খৃষ্টধর্মের ত্রয়োদশ পোপ গ্রেগরী ১৫৭৭ সালে জুলিয়াস প্রবর্তিত প্রচলিত ক্যালেন্ডারটিতে পরিবর্তন আনেন। অবশেষে ১৫৮২ সালে আরেক দফা সংষ্কার করে বর্তমান কাঠামোতে দাঁড় করান। পরিবর্তিত এ ক্যালেন্ডারে নতুন বর্ষের শুরু হয় জানুয়ারী দিয়ে, যা গ্রীকদের আত্মরক্ষার দেবতা ‘জানুস’-এর নামে রাখা হয়। আমাদের ব্যবহৃত বর্তমান ইংরেজী ক্যালেন্ডারটি ‘গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার’। প্রায় সারাবিশ্বে প্রচলিত ইংরেজী ক্যালেন্ডার এখন এটিই।
ইংরেজী সালের সাথে বাংলা সালের সমন্বয় :
ইংরেজী সালের মত বাংলা সালেও ৩৬৫ দিন। মূলতঃ পৃথিবীর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে আসতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড অর্থাৎ প্রায় ৬ ঘণ্টা। চার বছর পর এই ৬ ঘণ্টা ১ দিনে পরিণত হয়ে ৩৬৬ দিন হয়ে যায়। ইংরেজী ১২ মাসের মধ্যে ৭ মাস ৩১ দিনে (৭´৩১=২১৭), ৪ মাস ৩০ দিনে (৪´৩০=১২০), ফেব্রুয়ারী মাস ২৮ দিনে মোট (২১৭+১২০+২৮)= ৩৬৫ দিন। চার বছর পর ফেব্রুয়ারী মাস ২৯ দিনে হয়। যে বছর ফেব্রুয়ারী মাস ২৯ দিনে হয় সে বছরের দিন সংখ্যা হয় ৩৬৬ এবং বছরটির নাম Leapyear। ২৯ ফেব্রুয়ারীর দিনটির নাম Leap day। জুলিয়ান ক্যালেন্ডার থেকে এই নিয়মটি প্রচলিত হয়ে আসছে।
বাংলা সালের সাথে খৃষ্টাব্দের মিল করতে ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহকে প্রধান করে বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ঐ কমিটি ১৭ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৬ সালে বাংলা সালের সংস্কার করেন এভাবে-
১. বছরের প্রথম পাঁচ মাস (বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র) গণনা হবে ৩১ দিনে।
২. পরের সাত মাস (আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র) গণনা হবে ৩০ দিনে।
৩. ইংরেজী লিপ ইয়ারে বাংলা ফাল্গুনের সাথে ১ যোগ হয়ে ৩১ দিনে হবে।
এই সংস্কারের ফলে এখন প্রতি ইংরেজী বছরের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঙ্গালীরা এ সংস্কার গ্রহণ করেনি। ফলে বাংলা সাল হ’লেও তাদের সাথে তারিখে আমাদের মিল নেই।
তথ্য সংগ্রহ : বিভিন্ন ওয়েব সাইট থেকে।