ঝিনাইদহে ৮ ভেটেরিনারি ছাত্রকে ৩ ঘণ্টা ধরে নির্যাতন, তদন্তে বাধা

র‌্যাগিংয়ের নামে আট ছাত্রকে সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে রুমে আটকে রেখে মারধরের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির কাজ বন্ধ করতে ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ ক্যাম্পাসে ভাঙচুর ও শিক্ষকদের হুমকি দিয়েছে মারধরকারী শিক্ষার্থীরা। এছাড়া অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের আবারও মারধরের হুমকি দিচ্ছে।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মারধরের বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করায় তাকে আবারও মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করতে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির নেতৃত্বে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে কলেজ লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়।

এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের প্রথম বর্ষের আট ছাত্রকে দুপুর ১টার সময় একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে গিয়ে বেলা সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মারধর করে ওই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসির, শরীফ, জ্যোতি, এলিন, হাসিব, ফাহিম, জিহাদ, হাদিউল ও আশিকসহ অজ্ঞাতনামা দুই-তিন জনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তিন শিক্ষার্থী।

তবে অভিযোগের পর থেকে আবারও তাদের নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

ছাত্রদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলে কমিটির কার্যক্রম বন্ধে কলেজ ক্যাম্পাসে ভাঙচুর ও শিক্ষকদের হুমকি দেয় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে ভেটেরিনারি কলেজে অধ্যক্ষ মো. শাখাওয়াত হোসেন ঝিনাইদহ সদর থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, গত ৩ জানুয়ারি ২০১৯-২০২০ সেশনের সপ্তম ব্যাচের তিন শিক্ষার্থীকে বয়েজ হলের ৩১৪ নং কক্ষে নিয়ে র‌্যাগিং এর নামে অমানুষিক নির্যাতন করে। পরে তারা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে ৪ জানুয়ারি কলেজের শিক্ষকদের মধ্য থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় তদন্ত কার্যক্রম। এরপর ৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পাতিবার শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে সকাল ৯টা থেকে একাডেমিক ভবনের সামনে সমবেত হয়ে ২০১৩-২০১৪ সেশনের শিক্ষার্থী লুবান মাহফুজ মিশুক-এর নেতৃত্বে বেশ কিছু শিক্ষার্থী শ্লোগান দিতে দিতে আমার কক্ষে প্রবেশ করে। এর পর শিক্ষার্থীরা তদন্ত কমিটির সদস্যবৃন্দসহ উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকদের উদ্দেশে ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ করে এবং চলমান তদন্ত কর্মক্রম বন্ধ করাসহ তদন্ত কমিটির শিক্ষকদের এক ঘণ্টার মধ্যে কলেজ থেকে বহিষ্কারের দাবি করে। দাবি মানা না হলে ৭ জানুয়ারির নবীনবরণের অনুষ্ঠান বয়কটের হুমকি দেয়।’

‘এসময় তারা বিভিন্ন রকম হুমকি-ধমকি প্রদান করে, এবং বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। বের হয়ে যাবার সময় দ্বিতীয় তলার করিডোরের নিচ তলার লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাংচুর চালায়। পুলিশকে অবহতি করা হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে’-বলে জানান তিনি।

সুত্রঃppbd news